ই-টিকেটিংয়ের যুগে প্রবেশ করলো রাজধানী ঢাকা

ডেস্ক রিপোর্ট

জনবহুল রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মূলত নির্ভর করে বাসের উপর। মাঝে মাঝেই রাজপথে বিভিন্ন কারণে গণপরিবহনের সংকট প্রকট আকার ধারন করে। ঘোষিত বা অঘোষিত দুই মাধ্যমেই বন্ধ হয়ে যায় মধ্যবিত্তদের যোগযোগের একমাত্র অবলম্বন বাস।

সেই অহেতুক ঘটনার বড় একটি দায় সরাসরিই চলে যায় গণপরিবহন সংশ্লিষ্ঠদের উপরে। এবার সেই অহেতুক ঘটনার পুনরাবৃতির সমাপ্তি টানতে আজ ১৩ নভেম্বর ২০২২ থেকে মিরপুর অঞ্চলের সব বাসে ই-টিকিটের মাধ্যমে ভাড়া আদায় করা হবে।

মিরপুরে ৩০টি কোম্পানির বাস চলাচল করে এমন তথ্য জানালেন, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইস্কাটন এলাকায় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি আয়োজিত ‘রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে ই-টিকিটিং পদ্ধতি চালু’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ একথা জানান।

তিনি বলেন, আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি থেকে ঢাকা শহরে চলাচলকারী ৬০ কোম্পানির বাস এবং ২৮ ফেব্রয়ারি থেকে ঢাকা ও ঢাকা শহরতলীর ৯৭ কোম্পানির বাস ই-টিকিটিংয়ের আওতায় চলাচল করবে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর মাস থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ই-টিকিটিং পদ্ধতি চালু করা হলেও দেখা যায় এই পদ্ধতিতে মালিকরা ইনকাম সঠিকভাবে পাচ্ছি না। পরে ই-টিকিটিং মেশিন বাসের ভেতরে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। পরীক্ষামূলক সেই কাজটি আগের চেয়ে ফলাফল অনেক ভালো আসায় মালিকদের ইনকাম বেড়েছে। তবে এ পদ্ধতিতে একটি বাসে কর্মী সংখ্যা বেড়েছে মাত্র একজন।

তিনি আরও বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে ই-টিকিটিংয়ের জন্য। দুজন কর্মকর্তা এটি সমন্বয় করবেন। তিনটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে সচল করা হয়েছে একটি একটি হটলাইন। নম্বরগুলো হচ্ছে ০১৬১৮৯৩৩৫৩১, ০১৬১৮৯৩৬১৮৫ এবং ০১৮৭০১৪৬৪২২।

তিনি বলেন, ১৩ নভেম্বর থেকে মিরপুরের ৩০টি কোম্পানিকে আমরা এই টিকিটিংয়ের আওতায় নিয়ে আসছি এরপর পর্যায়ক্রমে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা শহরের মধ্যে চলাচলকারী সব কোম্পানির বাসকে ই-টিকিটিংয়ের আওতায় আনব।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গাজীপুর, সাভার, নবীনগর, ধামরাই, মুন্সীগঞ্জ চলাচলকারী ৩৭টি বাসকেও ই-টিকিটিংয়ের আওতায় আনা হলে ২৮ ফেব্রয়ারির মধ্যেই ঢাকা শহর এবং শহরতলিতে চলাচলকারী সব বাস ই-টিকিটিংয়ের আওতায় চলে আসবে।

এই ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হলে ঢাকা শহরের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে যে অসম প্রতিযোগিতা থাকত সেগুলো বন্ধ হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, ই-টিকিটিং চালু হলে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। কারণ চালকদের বেতন নির্ধারণ করা দেওয়া থাকবে। ই-টিকিটিংয়ের জন্য বর্তমান থেকে আরো অনেক টাকা বেশি বেতন নির্ধারণ করে তাদের দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আজমল উদ্দিন আহমেদ সবুর ও দপ্তর সম্পাদক সামদানী খন্দকারসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.