লিপিস্টিকের কুফল ও সুফল দিক সম্পর্কে জানেন কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক

লিপিস্টিক পছন্দ করে না এমন কোন মেয়ে খুজে পাওয়া মুশকিল। মেকআপ করার ক্ষেত্রে লিপস্টিক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসাধনী বলা যেতে পারে। লিপিস্টিক না হলে মেকআপ পরিপূর্ণ হয়না । বাসায় থাকলে ও হালকা রংয়ের লিপিস্টিক ঠোটে থাকবে। ঘরে বাইরে সবখানেই সঙ্গে থাকবে, রং হালকা হয়ে গেলেই আবার ঠোঁট রাঙিয়ে নেন। সামান্য লিপস্টিকের স্পর্শে চেহারার ক্লান্তি, বিষণ্ণতা অনেকখানি ঢেকে ফেলা সম্ভব হয় বলেই, প্রায় প্রতিটি নারীর হাতব্যাগেই একটি-দুটি লিপস্টিক পাওয়া যাবে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রোগ্রামে বিভিন্ন রং এর লিপিস্টিক এর কোন লিপস্টিকে হয়তো চেহারা ঝলমলে দেখায়, আবার অন্য আরেকটি লিপস্টিকে চেহারার আভা নিভে যায় অনেকটা।

তাছাড়া শুধু নারী নন, বহু পুরুষও লিপস্টিক ব্যবহার করেন।জানা যায়, জর্জ ওয়াশিংটনও নাকি মাঝে মধ্যে ঠোঁটে লিপস্টিক লাগাতেন।

আপনি কি জানেন লিপস্টিক শরীরের কতরকম ক্ষতি করে। তাছাড়া প্রতিক্ষন নিজের অজান্তেই ঠোঁটের এই (লিপিস্টিক )প্রসাধনী আপনি খেয়ে ফেলছেন ।

এছাড়াও, লিপস্টিক অনেকধরনের অ্যালার্জি সৃষ্টি করে ত্বকে। ঠোঁট কালো করে দেয়। রোমকূপ বন্ধ করে দেয়। শুষ্ক করে দেয় ঠোঁট। ক্যান্সার হওয়ার কারণও হতে পারে। লিপস্টিক এমন কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি হয়, যার দ্বারা ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায়।

মূলত আজকের আর্টিকেলে জানতে পারবেন লিপিস্টিকের কুফল ও সুফল দিক সম্পর্কে। কিভাবে লিপিস্টিকের ক্ষতিকর সাধন করে এর সুফল পাওয়া যাবে।

লিপিস্টিকের কুফল

 

লিপিস্টিকের ক্ষতিকর/ কুফল দিক
কোন ধরনের লিপিস্টিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন: যে লিপিস্টিকে সীসা, ক্যাডমিয়াম, পারদ ও অ্যান্টিমনি থাকে । তাছাড়াও লিপস্টিকে আরো থাকে ফর্ম্যালডিহাইড, কার্সিনোজেন, মিনারেল অয়েল ও পেট্রোকেমিক্যালস্। এগুলো ত্বকের ক্ষতি করে।

যত কম ব্যবহার, তত কম বিষক্রিয়া। এর চেয়ে সহজ সমাধান আর নেই। মনে রাখবেন, ব্যবহার করলে কিছুটা ধাতু আপনার দেহে ঢুকবেই। তাই সম্ভব হলে শুধু বিশেষ বিশেষ উৎসব বা অনুষ্ঠানেই ব্যবহার করুন।

লিপস্টিকে এমন সীসা রয়েছে যা আপনার দেহের জন্য ক্ষতিকারক। এটি হরমোন ভারসাম্যহীনতা এবং মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হিসাবেও পরিচিত। সীসা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক। লিপস্টিকে থাকা দস্তার পরিমাণ চিন্তিত হওয়ার মতো না হলেও দৈনিক যতবার এই লিপস্টিক ব্যবহার হয় সেটা একেবারে হেলাফেলা করার মতো নয়।যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) বলছে তাহলে কি লিপস্টিক লাগবেন না : তাহলে কি লিপস্টিক লাগবেন না। কেন নয়, অবশ্যই লাগাবেন । যে লিপিস্টিকের ক্ষতিকর দিক কম সেটা লাগাবেন নাকি বাসায় তৈরি করবেন

 

লিপস্টিক সুফল :

 

লিপস্টিকে থাকে ‘সান প্রোটেকশন উপাদান যা ঠোঁটকে রোদ থেকে রক্ষা করে প্রোটেক করে। হার্বাল জাতীয় লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন। লিপস্টিকে অ্যালোভেরা ও ভিটামিন ই থাকলে তা ঠোঁটে আর্দ্রতা যোগায়। নারীর মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দিতে পারে মুহূর্তেই। মন-মেজাজের উপরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে লিপস্টিক।

লিপস্টিক নারীর চেহারায় আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে আসে তোলে। এছাড়া অন্যদের কাছে নারীকে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে।বিভিন্ন সময়ে মানসিক চাপের মাঝে বিভিন্ন রংয়ের লিপস্টিক লাগানোর মধ্যে নারীকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। প্রত্যেকটি রঙ মানুষের উপর এক এক রকরে প্রভাব ফেলে থাকে। বিভিন্ন রঙের লিপস্টিক প্রকাশ করে বিভিন্ন ভাষা ও আছে আকর্ষণ করার ক্ষমতা। যেমন নারীর চেহারা পুরুষরা সবার প্রথমে দেখে থাকে। আর এই ঠোঁট আর রঙিন ঠোট জোড়া থেকে পুরুষের চোখ স্বভাবতই সরানো মুশকিল।আয়নার সামনে ঠোঁট রাঙিয়ে বসে থাকতে কার না ভাল লাগে প্রতিটা রং এর লিপস্টিক লাগিয়ে নিজের সৌন্দর্যকে উপভোগ করে নারীরা। কিছু নারীদের ক্ষেত্রে লিপস্টিক প্রতিটা মূহুর্তে চাই, লিপস্টিক ছাড়া চলবেই না।

লিপস্টিক বানাতে হলে শুধু কয়েকটি প্রাকৃতিক উপকরণ লাগবে: বীট, মোম, শিয়া বা কোকো বাটার, নারকে ল তেল ইত্যাদি।

বন্ধুরা আশা করি লিপিস্টিকের কুফল ও সুফল দিক সম্পর্ক জানতে পেরেছেন। এই আর্টিক্যালটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। প্রত্যেকটি পরামর্শ অবশ্যই আপনাদের কাজে আসবে। আরো নতুন কিছু পেতে আমাদের সাথে থাকুন । আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.